About us - আমাদের সম্পর্কে জানুন
Thursday, October 5, 2023
হিন্দু মন্দির মুক্তি আন্দোলন এবং একম সনাতন ভারত
-অনুলিখন: বিজিৎ প্রশান্থা
'রাখো রে ধ্যান, থাক্ রে ফুলের ডালি,/ ছিঁড়ুক বস্ত্র, লাগুক ধুলাবালি,/কর্মযোগে তাঁর সাথে এক হয়ে/ঘর্ম পড়ুক ঝরে।' - ধূলা মন্দির, রবি ঠাকুর
দেশ এবং সংস্কৃতি শুধুমাত্র ভূগোল এবং ভাষা দিয়ে গড়া নির্জীব পাথরকুচি নয়। দেশ এবং সংস্কৃতি ক্রম-প্রবহমান ধারণা যার গভীরে থাকে হাজার হাজার বছরের দর্শন এবং মূল্যবোধ। এই দর্শন আর মূল্যবোধ যেকোনো সংস্কৃতির আত্মা - যা মূর্তমান হয় দেশের আনাচে কানাচে ছিটিয়ে থাকা হাজার হাজার ছোট-বড় মন্দিরে। ভারতবর্ষ একটা প্রকৃতি-পূজক রাষ্ট্র যার জ্ঞান-বিজ্ঞান-দর্শন-শিল্পকলা-অভ্যাস-বিশ্বাস-উত্তরাধিকার সমস্তকিছুর উৎসে রয়েছে নিখাদ প্রকৃতিপ্রেম আর মানবপ্রেম। তাই তো ভারতবর্ষের প্রকৃতি এবং ভারতবর্ষের দেবী-দেবতা সাত-তলা আসমানে বসে কর্মহীন পড়শীর মতো কথায় কথায় কুপিত হয় না, বরং আটপৌরে উমা, অপর্ণা, সতী, অন্নপূর্ণা, সাবিত্রী, রাম, কৃষ্ণ, শিবের মতো কর্ম, প্যাশন আর মূল্যবোধের উদাহরণ তৈরী করে। তাই তো ভারতবর্ষের মন্দির কিছু ভীত ভক্তকুলের সংকীর্ণ প্রার্থনা-কোঠা নয়, বরং তারা ভারতের অনন্ত জীবনধারার জ্যোতির্লিঙ্গ, তারা যুগ-যুগান্তের আত্মত্যাগের সতী-তীর্থ। ভারতবর্ষের মূল্যবোধ এবং ভারতের দেব-দেবীর মূল্যবোধ এক এবং অবিচ্ছেদ্য - ঠিক যেমন ভারতের মন্দির আর হিন্দু জনমানস। ভারতের মন্দির ভারতীয়দের মনের মন্দির, আধ্যাত্মিকতার শক্তিপীঠ, মোক্ষের মূর্ত নচিকেতাগ্নি।
বলা বাহুল্য, বিগত হাজার বছর ধরে এই হিন্দু মন্দিরগুলিই বিদেশী আক্রমণের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হয়ে এসেছে। তার মূল কারণ:
এক, আক্রমণকারীরা হিন্দুদেরকে 'বিধর্মী কাফের' এবং হিন্দুদের ভগবানকে 'False God', মনে করতো, এবং তাদের তথাকথিত ধর্মগ্রন্থে হিন্দুদের হত্যা করার, এবং হিন্দু মূর্তি ও হিন্দু মন্দির ধ্বংস করাকে পুণ্য কর্ম বলে বিধান দেওয়া হয়েছে।
দুই, হিন্দু মন্দিরগুলি থেকে প্রচুর পরিমাণ ধনরত্ন লুঠ করা যেত।
তিন, হিন্দু মূল্যবোধ, হিন্দু সমাজ, হিন্দু শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে ভারতবর্ষকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় ছিল এই মূল্যবোধ-সমাজব্যবস্থা-শিক্ষাব্যবস্থার উৎসস্রোতে থাকা মন্দিরগুলিকেই বিধ্বস্ত করে দেওয়া।
সম্প্রতি KS Eshwarappa বলেছেন, বিগত হাজার বছরে ভারতবর্ষের ৩৬০০০ মন্দির ধ্বংস করে তার ওপর মসজিদ বানানো হয়। ঐতিহাসিক সীতারাম গোয়েল তথ্যের সাহায্যে দেখিয়েছেন যে, ভারতে প্রায় ১৯০০ এমন মসজিদ আছে, যাদের বিগত যুগে মন্দির হবার প্রমাণ প্রত্যক্ষভাবে বর্তমান। এই ধ্বংসের ইতিহাস এতই বীভৎস যে উত্তর ভারতের প্রথম মসজিদ মোহাম্মদ কাসিমের দ্বারা সিন্ধের দেবল-এ বানানো, এবং VS Naipaul লিখেছেন যে এই মসজিদ মোহাম্মদ কাসিম দ্বারা নিহত হিন্দুদের অস্থি দিয়ে তৈরী করা হয়েছিল।
হিন্দু মন্দিরের উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণের ইতিহাস:
এতো কিছু সত্ত্বেও কিন্তু হিন্দুদের কোনোদিনই ব্যাপকভাবে ধর্মচ্যুত করা যায়নি। ১৭০৭ সালে আওরংজেব-এর মৃত্যুর পর মারাঠা সাম্রাজ্য এবং অহল্যাবাই হোলকারের নেতৃত্বে ব্যাপকভাবে বহু মন্দির পুনরুদ্ধার এবং পুনর্প্রতিষ্ঠা করা হয়। নতুন করে কাশী বিশ্বেশ্বর মন্দির প্রতিষ্ঠা, ত্র্যম্বকেশ্বর, মহাবালেশ্বর,ওমকারেশ্বর,রামেশ্বরম মন্দির পুনরুদ্ধার/পুনর্প্রতিষ্ঠা অহল্যাবাই-এর নেতৃত্বে সম্ভব হয়। মারাঠা সাম্রাজ্যের পতনের পর ব্রিটিশরা তাদের দুশোবছরের শাসনকালে যেমন ব্যাপকভাবে মন্দির ভাঙেনি, তেমনি বিতর্কিত স্থলে মন্দির বানানোর অনুমতি দেওয়া থেকে বরাবরই বিরত থেকেছে।
ব্রিটিশরা ভারতে আসার পূর্বে মন্দিরগুলি স্থানীয় সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত হত। লেখক সঞ্জীব সান্যালের মতে, তারা ছিল নৃত্য ও শিল্পের কেন্দ্র এবং একটি বিশাল বিকেন্দ্রীভূত বাণিজ্য নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রদায়ের সুবিধার জন্য প্রতিটি মন্দিরে দাতব্য কেন্দ্র ছিল যা হিন্দু দ্বারা মন্দিরগুলিতে দেওয়া সম্পত্তির সাহায্যে চালানো হতো। সুবিধার মধ্যে থাকতো: বিশ্রামাগার, পাঠশালা, গোশালা এবং শিক্ষার অগ্রগতির জন্য প্রতিষ্ঠান এবং দরিদ্রদের খাওয়ানো।
ঔপনিবেশিকতা এবং ধর্মান্তরের ব্রিটিশ এজেন্ডা সফল করার জন্য মন্দির সংগঠনকে দুর্বল করা জরুরি ছিল। এজন্য দক্ষিণ ভারতের মন্দিরগুলিকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল কারণ ক্রমাগত আক্রমণের কারণে উত্তরে খুব বেশি মন্দিরের এত বিশাল সম্পত্তি বা সম্পদ ছিল না। ব্রিটিশরা এটি করার জন্য 1817 সালের Madras Regulation VII প্রবর্তন করে।
1840 সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মন্দিরগুলিকে তাদের ট্রাস্টিদের কাছে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, কারণ ভারতে এবং বিদেশে খ্রিস্টান মিশনারিগুলি খ্রিস্টানদের দ্বারা হিন্দু মন্দির পরিচালনার ধারণা পছন্দ করেননি। এইভাবে, মন্দির পরিচালনা ধীরে ধীরে, ট্রাস্টিদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং 1845 সালের মধ্যে বিশিষ্ট মন্দিরগুলি বিখ্যাত মঠগুলির কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাজস্ব বোর্ড বড় মন্দিরগুলির প্রশাসনের তত্ত্বাবধান করত।
এরপরে আসে The Religious Endowments Act 1863, যা মন্দিরের প্রশাসনকে ব্রিটিশ সরকারের ট্রাস্টিদের কাছে হস্তান্তর করে। মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উপাসনার প্রাথমিক উদ্দেশ্য এবং তহবিলের ব্যবহার কিন্তু মঠ-পতি বা অন্যান্য ট্রাস্টিদের গোচর তখনও হারায়নি। মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির শতাধিক মন্দির সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল সরকার তাদের তত্ত্বাবধানে সামান্য বা কোন ভূমিকা পালন করেনি। ট্রাস্টিরা মন্দিরের জন্য প্রযোজ্য নীতি অনুসরণ করে মন্দির চালাতেন।
ব্রিটিশরা The Madras Religious and Charitable Endowments Act 1925 প্রবর্তন না করা পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। 1925 সালে Madras Religious and Charitable Endowments Act কিছু নির্দিষ্ট ধর্মীয় এনডোমেন্টের আরও ভাল শাসন ও প্রশাসনের জন্য স্থানীয় আইনসভা দ্বারা পাস করা হয়। ধর্মস্থলে অযাচিত হস্তক্ষেপের জন্য মুসলিম ও খ্রিস্টানরা এই আইনের তীব্র বিরোধ করে । এরপর এই আইনের কিছু সংশোধন করে মাদ্রাজ হিন্দু ধর্মীয় ও এনডাউমেন্টস অ্যাক্ট 1927 আনা হয়েছিল, যাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ থেকে শিখ, মুসলিম এবং খৃস্টানদের চার দেওয়া হয়। হিন্দুরা ব্যাপকভাবে প্রতিবাদ করেনি বলে হিন্দু মন্দিরগুলি আংশিকভাবে তৎক্ষণাৎ সরকারি হাতে চলে যায়। 1928 সালের I, 1929 সালের V, 1930 সালের IV, 1931 সালের XI, 1934 সালের XI, 1935 সালের XII, 1938 সালের XX, 1939 সালের XXII, 1944 সালের V এবং 1946 সালের X সংশোধন দ্বারা এই সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরো মজবুত করা হয়। হাস্যকরভাবে, 1925 সালে, শিখ গুরুদ্বার আইন পাস হয়েছিল যা গুরুদ্বারগুলিকে শিখদের একটি নির্বাচিত সংস্থার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
স্বাধীনতার পর নেহরুর কংগ্রেস সরকারের অধীনে ভারতীয় ধর্মীয় কাঠামোর প্রতি এই একই উদাসীনতা অব্যাহত ছিল এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্য শুধুমাত্র সোমনাথ মন্দিরই পুনরুদ্ধারের মুখ দেখেছিল। এটা পরিহাসের বিষয় যে পাকিস্তান, যেটি একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ছিল, পুরানো মসজিদ সংস্কার এবং নতুন মসজিদ নির্মাণের কাজ হাতে নেয়; নেহেরুর অধীনে, ভারত, একটি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, এই একই মসজিদ সংস্কার এবং নতুন মসজিদ নির্মাণের কাজ করেছিল; অন্যদিকে ভারতীয় মন্দিরগুলিতে সংস্কার তো করেইনি, বরং নিছক অবহেলায় অনেক মন্দিরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হতে দিয়েছিল।
স্বাধীন ভারতের সংবিধান আকার নেওয়ার অনেক আগে থেকেই এবং সত্যিকারের নির্বাচিত আইনসভা সংস্থাগুলি তৈরি হওয়ার অনেক আগে, মাদ্রাজের কংগ্রেস সরকার হিন্দু মন্দিরগুলির উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার জন্য পূর্ব বর্ণিত ধর্মীয় আইনটিকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিল। হিন্দু ধর্মীয় ও চ্যারিটেবল এনডাউমেন্টস (এইচআরসিই) বিল মাদ্রাজ আইনসভায় 4 ফেব্রুয়ারি, 1949-এ উত্থাপিত হয়েছিল।
বিলটি যে নতুন বৈশিষ্ট্যগুলি প্রবর্তন করতে চেয়েছিল তার মধ্যে কয়েকটি হল:
এই আইনের আওতায় HRE বোর্ড, যেটি আপাতদৃষ্টিতে একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা, HRCE বিভাগকে (সরকারের একটি নির্বাহী বিভাগ) নির্দেশ দিয়ে সমস্ত ধর্ম এবং দাতব্য সংস্থানগুলিকে HRCE বিভাগের অধীনে নিয়ে আসে,
এই আইন HRCE বিভাগকে মঠ সহ সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বাজেটে পরিবর্তন, সংযোজন এবং বাদ দেওয়ার অধিকার দেয়;
এই আইন HRCE বিভাগকে মঠকেও অবহিত করার এবং নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষমতা দেয়;
এই আইন উত্তরাধিকারী ট্রাস্টিদের অপসারণ, ডিটাম নির্ধারণ, উদ্বৃত্ত তহবিলের আবেদন এবং স্থাবর ট্রাস্ট সম্পত্তিকে আদালতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে বিভাগের সিদ্ধান্তের অবধারণা দেয়;
এই আইনে বলা হয় যে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যারা বার্ষিক 200 টাকার বেশি আয় করছে তাদের আয়ের 5% HRCE ফান্ডে দিতে হবে সরকার এবং তাদের কর্মকর্তাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠানে প্রদত্ত পরিষেবাগুলির জন্য; আরও, যে সকল প্রতিষ্ঠানের আয় 1000 টাকার বেশি, তাদের আয়ের 1.5% অডিট ফি দিতে হবে, ইত্যাদি।
1959 সালে কিছু পরিবর্তনের সাথে Tamil Nadu Hindu Religious and Charitable Endowments Act পাশ হয়। তখন দেশে কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল। এতে বলা হয় যে, এই আইনের উদ্দেশ্য ধর্মীয় ট্রাস্ট এবং প্রতিষ্ঠানগুলি সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং আয়ের অপব্যবহার না হয় তা নিশ্চিত করা। এই নতুন আইন Hindu Religious Endowments Boardকে বিলুপ্ত করে এবং একজন কমিশনারের হাতে সরকারের হিন্দু ধর্মীয় ও দাতব্য এনডোমেন্টস বিভাগের কর্তৃত্ব ন্যস্ত করে। এই আইন অনুযায়ী যদি সরকার বিশ্বাস করে যে কোনো হিন্দু পাবলিক চ্যারিটেবল এনডোমেন্টের অব্যবস্থাপনা হচ্ছে, তাহলে সরকার কমিশনারকে তদন্ত করে এনডোমেন্টকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনার নির্দেশ দিতে পারে। 'অব্যবস্থাপনা'র এই বিধান মুসলিম এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জন্য প্রযোজ্য নয়।
সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদী বেশ কয়েকটি মন্দিরের পুনঃসংস্কার করলেও মন্দিরগুলির ওপর সরকারি কব্জা এখনো সরায়নি। বরং কর্ণাটক, উত্তরাখণ্ডের বেশ কয়েকটি বিখ্যাত মন্দিরকে উল্টো কব্জা করেছে, হিন্দু মন্দিরগুলিতে এন্ট্রি ফী বাড়িয়েছে,- যখন কিনা মুসলিম সমাজের লোকজনকে আরবে হজ যাত্রায় ৫০০০০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দিয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে এই নাঙ্গা নাটক একমাত্র ভারত সরকারের দ্বারাই সম্ভব! কারণ হিন্দুরা ইন্ডিয়ান স্টেট দ্বারা রাজনৈতিকভাবে বোবা, খণ্ডিত, এবং উদাসীন। হিন্দুরা ভারত সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে না, লড়াই বা বিদ্রোহ করে না।
হিন্দু মন্দিরের সরকারি নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি একম সনাতন ভারত দলের সপ্ত সংকল্পের পবিত্রতম সংকল্প। একজন গর্বিত আর কট্টর হিন্দু হোন। হিন্দু সমাজকে এই রাষ্ট্রীয় শোষণ এবং যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্ত করতে এছাড়া উপায় নেই।
সর্বে সনাতনে ভবন্তু একাত্মম্।
বিজেপি-আরএসএস-এর মেকি দ্বন্দ্ববাদ:
ছায়া ও কায়া, জল ও শীতলতা ইত্যাদি বিষয়গুলি কখনোই একে অন্যের সাথে পৃথক ভাবে থাকতে পারে না। ঠিক তেমনই হল তথাকথিত হিন্দুবাদী দল বিজেপি ও তথাকথিত হিন্দুবাদী সংগঠন আরএসএস বা সংঘ। আরএসএস যদি এক বৃহত্তর কৃষিক্ষেত্র হয় তাহলে তার ফসল হল বিজেপি। কাজেই এই দুটি সংগঠনের ভিশন, বিচারধারা সমান্তরাল যদিও এগুলির পরিণাম হল হিন্দুবিরোধ ও হিন্দুদের সর্বনাশ।
সম্প্রতি এহেন মানিকজোড় এর মাঝে দেখা গিয়েছে দ্বিমত, তৈরি হয়েছে মতের বিরোধিতা। চলুন, আপাতদৃষ্টিতে যা দেখা যাচ্ছে সেটাই আগে আপনাকে বর্ণনা করি। 'স্বস্তিকা'- যা সংঘের একটি পত্রিকা, সেখানে রাজ্যে নানা দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত নিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
আপনারা দেখে থাকবেন যে, রাজ্য বিজেপির নেতারা এখন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারের দাবির ব্যাপারটি বর্ণপরিচয়, সহজপাঠের মত আউড়াচ্ছে। শয়নে, স্বপনে, জাগরণে তাদের এখন একটাই বুলি "ভাইপোকে জেলে ভরো"। তা কয়লাচোর,গরুচোর, ত্রিপলচোর মামদোদের জেলে ভরলে একমের কিছুই এসে যায় না। পক্ষান্তরে একম সনাতন ভারত এই ব্যাপারটিকে সমর্থনই করে। কিন্তু বিজেপির নেতাদের এহেন আচরণের মাঝেই সঙ্ঘের মুখপত্রে ঠিক উল্টো দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, "এটা ঠিক অনেকের কাছে মূল সমস্যা, অভিষেক কেন জেলের বাইরে? এটা অবান্তর চিন্তা। তদন্তকারীদের মতে গ্রেফতার তদন্তের একটি অংশ। পুরো তদন্ত নয়। মনে হয় এই একমুখী ভাবনা এখানকার বিরোধীদের সত্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখছে।"
এর পর থেকেই রীতিমত দিকবিদিক শূন্য হয়েছে গেরুয়া শিবির। যে সংগঠনের আদর্শ নিয়ে বিজেপি চলে সেই আরএসএসের মত জানার পরে বিজেপির "তৃণমূল" স্তরের কর্মীরা ব্যাঙের মাথা বুঝবেন না ছাতা বুঝবেন, সে নিয়ে বিজেপির এখন মাথা দিয়ে হিমালয় ভাঙ্গার জোগাড় ।
এদিকে ওই প্রবন্ধের লেখক নির্মাল্য মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, "আমার লেখা প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার পরে তা নিয়ে আমার কিছু বলা মানায় না। যা বলার পত্রিকার পক্ষেই বলা হবে।" আর স্বস্তিকা-র সহ-সম্পাদক সুকেশচন্দ্র মণ্ডলের বক্তব্য, "আমাদের একটি লেখা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। তবে তা অবান্তর। স্বস্তিকায় যে কোনও লেখার ক্ষেত্রে লেখকের মতামতের স্বাধীনতা থাকে। সেই মতোই লেখক লিখেছেন। এর সঙ্গে কোনও তদন্তকে প্রভাবিত করা বা দুর্নীতিকে সমর্থন করার প্রশ্ন নেই।"
লেখাটি নেতা থেকে বিজেপি কর্মীদের সাথে সাথে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে রীতিমত ভাইরাল । রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ও তৃণমূল থেকে আসা রাজ্য বিজেপির ফায়ারব্র্যান্ড নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করা হলেও লেখার একটি অংশে সরাসরি তাঁরই সমালোচনা করা হয়েছে বলেইবোঝা যাচ্ছে। লেখা হয়েছে, "রাজ্য জুড়ে সারা দিন কীর্তনের মতো বেজে চলেছে— পিসি-ভাইপো চোর।" শুভেন্দুর মুখে সব সময়েই এই স্লোগান শোনা যায়। একই কথা বলেন তৃণমূল থেকে আগত বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও। তবে এই নিবন্ধ প্রসঙ্গে সুকান্তের মুখারবিন্দ দিয়ে নিঃসৃত "শাক দিয়ে মাছ ঢাকার প্রচেষ্টার" মহাবাক্যগুলি হল "স্বস্তিকা একটি স্বাধীন পত্রিকা। সেখানে এক জন লেখক তাঁর স্বাধীন মত প্রকাশ করেছেন। তা নিয়ে সাধারণ মানুষের চাওয়া বদলাবে না। আমাদের দাবিও নয়। আমরা মনে করি, তদন্তের স্বার্থে যা যা পদক্ষেপ দরকার, সব করা উচিত।"
আরএসএস এর ওই প্রবন্ধে লেখা হয়েছে, "ইডি, সিবিআই নিয়ে বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর হতাশাকে তাই মান্যতা দিতেই হবে। তার মানে এই নয় যে, তদন্তকারীরা তদন্ত বন্ধ করে দিয়েছেন বা উঁচুতলার রাজনৈতিক চাপে ভেঙে পড়েছেন। এ সব আজগুবি তত্ত্ব? অন্য নাম 'সেটিং'। সন্দেহ নেই অভিষেকবাবুর গ্রেফতার বা আটক এই মুহূর্তে রাজ্যের সবচাইতে আলোচিত বিষয়।" এর পরে এ-ও লেখা হয়েছে যে, "আমার মনে হয় আটক বা গ্রেফতারির উপর বেশি গুরুত্ব না দেওয়াটাই রাজনৈতিক ভাবে অনেক বেশি সমীচীন।"
এত গেল আপাতদৃষ্টিতে যা দেখা যাচ্ছে তার কথা। প্রকৃতপক্ষে রাজ্য বিজেপি প্রকারান্তরে তৃণমূল প্রাক্তনীদের একটি টীম। যেখানে নেই কোনো উল্লেখ করার মতো নীতি, আদর্শ, বিচারধারা। কখন মোদী সেন্টার থেকে একটু ভুটুস কাটবেন, তারই অপেক্ষায় চাতকের বর্ষার প্রতীক্ষার মত অপেক্ষায় থাকে বিজেপি। তার উপর আরএসএস এর এহেন তৃণমূল যুবরাজ প্রীতি দেখার পর সচেতন রাজ্যবাসীর মনে কেবল একটা শব্দই ঘুরপাক খাওয়া উচিৎ "বিজেমূল "।
গঙ্গাধরই কিন্তু শক্তিমান !!! আর বাপী লাহিড়ী সম্ভবত এই দিনটার জন্যই গান টা লিখেছিলে "আমে দুধে মিশে যাবে/ আঁটি খাবে গড়াগড়ি... "
এরপর আপনি বুদ্ধিমান, সুতরাং নিজেই বাকিটা বুঝে নিন।
দেওড়িয়া ব্রাহ্মণ গণহত্যা এবং ভারতের জাতিবাদী রাজনীতি:
২০১৪ তে ক্ষমতায় আসার পর নরেন্দ্র মোদী বোধহয় ভেবেছিলেন, হিন্দুদের সেন্টিমেন্ট উস্কে ক্ষমতায় আসার পর ভাসা-ভাসা দু-চারটে হিন্দুবাদী ভাষণ দিয়ে হিন্দুদের বাগে রাখা যাবে। আর কংগ্রেস তো প্রকাশ্যে হিন্দু-বিরোধী পলিটিক্স করে, সেজন্য মধ্যপন্থা বা অল্প শরিয়াপন্থী হলেও বিজেপি-র ক্ষতি নেই। সেজন্যই তো মুসলিমদের ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা খরচ করে হজ ভর্তুকি দেওয়া, 'ইনভেস্টমেন্ট'-এর নাম করে আরবের কাছে কাশ্মীর এবং কেরালা খুলে দিয়ে প্রকাশ্যে সালাফি জিহাদ প্রোমোট করা, নুপূর শর্মা কান্ডে হিন্দু-হিতের কথা ভুলে গিয়ে কাতারের মতো একটা মটরদানার সাইজের দেশের সামনে ভারতের সম্মান এবং sovereignty-কে বিসর্জন দেওয়া, ব্রিটিশ স্টাইল-এ এদেশের মুসলমানদের চোখে গ্রহণযোগ্য হতে আরবের দেশগুলোর কাছ থেকে নাগরিক সম্মান নিয়ে আসা - ভারত এবং সমগ্র বিশ্বের মুসলিমদের তোষণ করতে মোদী কী না কী করেছে!
তবে মোদীর বিজেপি-র মুকুটে নতুন পালক: Caste Census নামক বিষাক্ত, tribal, জাতিবাদী কর্মকান্ডের প্রচছন্ন সমর্থন। গো-বলয়ের রাজ্যগুলিতে হিন্দুত্বকে দাবিয়ে রাখতে মুসলিম-যাদব জোট খুব জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক চাল। সম্প্রতি বিহারে এপ্রসঙ্গে একটি সেনসাস পাবলিশ করা হয়েছে, যেখানে 'Upper Caste'-কে জনসংখ্যার হিসেবে সংখ্যালঘু, এবং OBC-SC-ST সমাজকে সংখ্যাগুরু সমাজ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে কয়েকটি কথা এখানে আলোচ্য:
১। OBC ক্যাটেগরিতে ৮০%-এর বেশি মুসলমানকে ঢোকানো হয়েছে! কিন্তু OBC reservation-এ মুসলিমদের ঢোকানোর আইডিয়া কার জানেন? নরেন্দ্র মোদীর!
২। সম্প্রতি মোদী একটি আম্বেদকারবাদী সভায় মন্তব্য করেন, "আম্বেদকরকে যত অপমান সইতে হয়েছিল, তার হিসাব তো চোকাতে হবেই।" একজন প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে যখন এহেন কথা বের হয়, তখন বিজেপি-র নির্বাচনী ট্যাক্টিক্স-এ জাতি-বর্ণ-বিদ্বেষ কতটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে রেখেছে এটা বুঝতে অসুবিধে হয় না।
৩। সম্প্রতি জানা গেছে , বিজেপি ওড়িশায় caste census করানোর জন্য BJD-কে প্ররোচিত করছে। হিন্দুত্বের ধ্বজা নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিজেপি এভাবেই হিন্দুদের জাতিতে বাঁটতে বদ্ধপরিকর।
৪। সম্প্রতি UP-তে যাদব-ব্রাহ্মণ দ্বন্দ্ব এবং গণহত্যার খবর সামনে এসেছে, যেখানে জানা যাচ্ছে প্রেমপ্রকাশ যাদব নামক এক জিলা পঞ্চায়েত সদস্যকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে সত্যপ্রকাশ দুবে নামক এক ব্রাহ্মণের পরিবারের ছয় সদস্যের গণহত্যা (সত্যপ্রকাশ দুবে -৫৪, কিরণ দেবী - ৫২, দীপেশ - ১৫, সালোনি - ১৭, নন্দিনী - ১০, অনমোল - ৮ ) হয়েছে। যদিও এটা রাজনৈতিক গণহত্যা, কিন্তু যাদব-কে সমাজবাদী আর দুবে-কে মোদীবাদী বানানোর যে নোংরা খেলা ভারতীয় রাজনীতিতে মোদির নেতৃত্বে শুরু হয়েছে, তার অন্তে লেখা আছে হিন্দুত্ব এবং হিন্দুদের সমূল বিনাশ।
৫। সুশীল মোদী সম্প্রতি মন্তব্য করেন যে, caste census -এর শ্রেয় লালুর নেওয়া উচিত নয়, কারণ বিজেপি ক্ষমতায় থাকার সময় ২৭টি পয়েন্টে জনগণনার সিদ্ধান্ত নেয়, যার মধ্যে একটি পয়েন্ট ছিল caste ।
Image Credit: Aaj Tak
এই ধ্বংসাত্মক রাজনীতি থেকে ভারত এবং হিন্দু সমাজকে টেনে তোলা আমাদের আশু কর্তব্য। আর এর একমাত্র সমাধান একম সনাতন ভারত দল । আমাদের বক্তব্য খুব পরিষ্কার : এই ভারতে এক হাজার বছর ধরে সনাতনীদের ওপর যে জেনোসাইড হয়েছে তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান, এবং সমস্ত সনাতনীদের সনাতনী পরিচয়ের জন্য ভর্তুকি, সাহায্য, উদ্যোগ, এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রদান - একম সনাতন ভারত এইজন্যই লড়বে।
ভারতে যদি তুষ্টিকরণ কারো হয়, সেটা একমাত্র সনাতনীদের হবে । অন্য কারো নয়।
Wednesday, October 4, 2023
'বিজেপি মানে ভগবা নয়': জে .পি. নাড্ডা
বিজেপি-র এই 'জলে-নামবো-কিন্তু-বেণী-ভেজাবো-না'-বাদী হিন্দুত্ব রাজনীতি আসলে প্রমাণ করে যে বিজেপি হিন্দুত্ববাদ নিয়ে আসলে অতটাও গম্ভীর নয় যতটা কংগ্রেস-কমিউনিস্ট-ইসলামিস্ট আঁতাত দাবি করে। এর মূল কারণ বিজেপি নামক সংস্থাটির প্রতিষ্ঠার গোড়া থেকেই নীতিগতভাবে বড় গলদ রয়ে গেছে। বিজেপি-র নিজস্ব বুদ্ধিজীবী কোষ (intellectual cell) বলে কিছু নেই, এদের নিজস্ব স্বদেশী বাস্তুতন্ত্র (eco-system) সম্পূর্ণ বায়বীয়, এদের অর্থনৈতিক মতাদর্শের সাহিত্যের মূল কথা গান্ধীবাদী সমাজবাদ (Gandhian Socialism) যা স্বয়ং কংগ্রেসও বিশ বছর আগে ত্যাগ করেছে , এদের হিন্দুত্ব 'ভারতমাতা', 'অখন্ড ভারত', 'সব ভারতবাসীই হিন্দু', 'One Nation One Religion' - এসব ফালতু gimmick-এ আটকে গেছে। একবিংশ শতাব্দীর ক্রম-পরিবর্তনীয় narrative-এর যুগে বিজেপি-র এই মান্ধাতা হিন্দুত্ববাদ সমর্থন করা হিন্দুদের জন্য বোকামো নয় - বরং বিপজ্জনক। কারণ এরকম হিন্দুত্ববাদ হিন্দু ধর্মের মৌলিক অবধারণাগুলি থেকে দূরে করে হিন্দুদের ক্রমশ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
স্বাধীনতার পর থেকে বামপন্থী কংগ্রেস-কমিউনিস্টদের ক্রমাগত অবমাননা সহ্য করার পরই হিন্দু সমাজ খেটেখুটে যখন বিশ্বমঞ্চে খাড়া হওয়ার চেষ্টা করছে, যখন ব্রিটিশ-দের নির্মিত বিষাক্ত জাতিবাদের ওপরে উঠে একত্রিত হয়ে দিল্লির মসনদের সামনে স্বাভিমান, সম্মান এবং অধিকার দাবি করছে, তখন তাদের বিরুদ্ধে একরকম ষড়যন্ত্র করেই বিজেপি Ambedkarite আন্দোলন খাড়া করে হিন্দুত্ব থেকে দলিত সমাজকে আলাদা করার ষড়যন্ত্র করছে, টিভি চ্যানেল-এ চরম মৌলবাদী AIMIM দলের সদস্যদের জায়গা দিয়ে মুসলিমদের মৌলবাদের শিক্ষা দিচ্ছে এবং একই সাথে হিন্দু সমাজে ভীতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
তাই জেপি নাড্ডাকে উদ্ধৃত করেই বলা যায়, বিজেপি মানেই ভগবা নয়। বরং ঐতিহাসিকভাবে বিজেপি ভগবা ইস্যুগুলি থেকে নিজেদের শত যোজন দূরে সরিয়ে রেখেছে। বিজেপি আসলে চায় যে, হিন্দু সমাজ হয় বিজেপির অনুগত এবং নমনীয় থাকুক,- নয়তো বিজেপি-কর্তৃত্ব-বিরোধী হলে একান্তই দুর্বল থাকুক। শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ হিন্দুত্ববাদ কংগ্রেসের পক্ষে যতটা অবাঞ্ছনীয়, বিজেপি-র কাছে ততটাই পরিত্যাজ্য।
এমন দুর্বিষহ বঞ্চনা আর আঘাতের জবাবে হিন্দু হিসেবে একত্রিত হোন। আর কট্টর সনাতনী দল *একম সনাতন ভারত* দলে যোগ দিন। কারণ মোদী-র 'বিজেপি-র বিকল্প কী' প্রশ্নের একমাত্র জবাব: *একম সনাতন ভারত*।
'ভারতমাতা' এবং 'অখন্ড ভারত': RSS-সৃষ্ট একটি হিন্দুত্ববিরোধী বিভ্রান্তি:
'ভারতমাতা' এবং 'অখন্ড ভারত' শুনতে ভালো হলেও বিপজ্জনক, অ-হিন্দু ন্যারেটিভ কেন? এটা বুঝতে হলে আমাদের হিন্দুত্ব এবং সনাতন ধর্ম কী, তা academic-ভাবে বোঝা জরুরী। আব্রাহামিক মজহব-গুলিতে (খ্রীষ্টানিটি, ইসলাম, ইহুদী) ঈশ্বরকে সর্বশক্তিমান একটি entity মানা হয় যিনি আমাদের মাথার ওপর খুব উঁচুতে heaven-এ বসে আমাদের ক্রমাগত নিরীক্ষণ করে চলেছেন এবং আমাদের পাপ-পুণ্যের হিসেব রেখে চলেছেন। আব্রাহামিক ঈশ্বরের এইটুকু ব্যক্তিকেন্দ্রিক, physical আইডিয়াই হাজারটা puzzle বা ধাঁধা-র জন্ম দেয়। যেমন ধরুন:
1. যেহেতু পৃথিবী গোল, সুতরাং মাথার ওপর স্বর্গ এবং তাতে আসীন ঈশ্বর কী আসলে একটা ফাঁপা গোলকাকৃতি স্থান বা ব্যক্তি বিশেষ?
2. পৃথিবী ঘূর্ণায়মান, তাই মাথার ওপরের যে আকাশ তা তো সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। তো ঈশ্বরও কী সময়ের সাথে সাথে অবস্থান বদলান?
3. ঈশ্বর যদি omnipotent হন, তাহলে এমন একটা পাথর কি তিনি বানাতে পারেন, যা তিনি নিজেই তুলতে অক্ষম?
-ইত্যাদি।
যাই হোক, আব্রাহামিক ধর্মগুলি তর্কের বদলে বিশ্বাসকে বাহুল্য দেয়, এসব স্বাভাবিক প্রশ্ন ও কৌতূহলকে ঈশ্বরের ভয় দেখিয়ে দমন করানোতেই মাথা খরচা করে। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার: এই মজহব-গুলির ঈশ্বর কিন্তু মূল্যবোধের ধার ধারে না, উল্টে এদের মূল্যবোধ ঈশ্বরের থেকে সৃষ্ট হয়। আব্রাহামিক ঈশ্বরের যেহেতু সত্যনিষ্ঠা এবং মূল্যবোধের প্রতি নীতিগত দায়বদ্ধতা থাকে না, তাই এই মজহবগুলির মূল্যবোধগুলিরও সত্যনিষ্ঠার গ্যারান্টি খুব একটা থাকে না। বরং believer-nonbeliever, কাফের-মুমিন বাইনারিতে মানবতাকে আড়াআড়ি ভেঙে দেওয়া এই মজহবগুলিতে মূল্যবোধও অত্যন্ত পলিটিক্যাল হয়, সত্যনিষ্ঠ হয় না। এমনকী এই মজহবগুলি নিজেদের political expansion-এর সংকীর্ণ স্বার্থে 'সত্য'-এর সংজ্ঞাও বদলে ফেলে। এই ধর্মগুলির মতে: কুরআন বা বাইবেলে যা লেখা আছে, সেটাই সত্য। তা সে বইগুলি যা খুশি বলুক: পৃথিবী চ্যাপ্টা সমতল, পৃথিবীর চারদিকে সূর্য ঘোরে, সূর্যাস্তের পর সূর্য ঈশ্বরের তক্তার নীচে গিয়ে লুকিয়ে যায়- অর্থাৎ 'পবিত্র' বইতে যা লেখা আছে তাই সত্য।
হিন্দুধর্মে কিন্তু সত্য এবং সনাতন মূল্যবোধকে ঈশ্বরেরও উপরে স্থান দেওয়া হয়। এজন্যই বিষ্ণুর মতো দেবতাকে বৃন্দার মতো পতিব্রতা সাধারণ মানুষ অভিশাপ দিতে সক্ষম, আবার রাম-কৃষ্ণ-বুদ্ধের মতো সাধারণ জনগণও নিজ যোগ্যতায় ও কর্মবলে 'অবতার' আখ্যায়িত হয়। হিন্দুধর্মে একমাত্র সত্য-সনাতনই omnipotent ব্রহ্ম, অন্য কিছু নয়। এহেন দৃষ্টিভঙ্গী থেকে যা কিছু প্রতীকের হিন্দুরা পূজা করে (মূর্তি, শিবলিঙ্গ, বৃক্ষ, শস্ত্র), সেই সবকিছুই সনাতন সত্য-সৃষ্ট মূল্যবোধেরই প্রতিভূ। এই সনাতনী প্রতীকগুলি সৃষ্টি এবং প্রচারের পেছনে আছে হাজার বছর ধরে ঋষি-মনীষী-পরম্পরা-জাত বিশদ শাস্ত্র, মন্ত্র ও তন্ত্রের সৃষ্টি চর্চা, ব্যাখ্যা এবং সত্যসন্ধান। সেজন্যই হিন্দুদের মূর্তিপূজা নিছকই পুতুলখেলা নয় - তা মন্ত্রোচ্চারণ-মনোসংযোগ-আত্মশুদ্ধি-সর্বকল্যাণকামনা-আত্মোপলব্ধির এক আধ্যাত্মিক সর্বাঙ্গীন অনুভূতি।
কিন্তু RSS-BJP যে ঘটা করে এত এত ভারতমাতি মন্দির বানাচ্ছে, এর আধ্যাত্মিক fundamentals কী? ভারতমাতা এবং অখন্ড ভারত তো পলিটিক্যাল, জমি-দখলের আইডিয়া। সময় বদলায়, ইতিহাস, ভূগোল, সীমানাও সাথে সাথে বদলায়, কিন্তু সনাতন ধর্ম তো বদলায় না! তাই 'ভারতমাতা' নামক কনসেপ্ট-এর না আছে সর্বময়তা, সারস্বত উপস্থিতি, না আছে হিন্দু শাস্ত্রসম্মত ব্যাখ্যা, না আছে মন্ত্রোচ্চারিত আধ্যাত্মিক নির্ঘোষ, না আছে আর্ষস্বীকৃতি - যা হিন্দু ঈশ্বরের আইডিয়ার পরিপন্থী। ভারতমাতা একটি hollow political concept যা হিন্দুধর্মচর্চার থেকে অনেক নীচুস্তরের একটি ভ্রষ্ট, অযৌক্তিক আইডিয়া। শুধু তাই নয়, RSS তাত্ত্বিকভাবে তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ এই ভারতমাতার প্রতি প্রেম-ভক্তি থেকে derive করে এসেছে। RSS-এর সত্যাদর্শ 'ভারতমাতা' নামক পলিটিক্যাল-ঈশ্বর-সম্ভূত। অর্থাৎ RSS-এর ভারতমাতা আসলে 'Abrahamic idolatry' বা একটি পলিটিক্যাল পুতুলের ইবাদত্-বাদ ছাড়া আর কিছু নয়।
আর 'অখন্ড ভারত' তো আরো বিপজ্জনক একটি আইডিয়া। বাংলাদেশ আর পাকিস্তান মিলিয়ে নিলে অখন্ড ভারতে শান্তির সন্তানদের সংখ্যা দাঁড়ায় 75 কোটি। ভারতের হিন্দু জনসংখ্যা মেরেকেটে একশো কোটি। তার আবার ষাট কোটি ঘোরতর sickular। তো এমতাবস্থায় অখন্ড ভারতের একমাত্র অর্থ, 'শান্তিদূতদের সাথ, শান্তিদূতদের বিকাশ, এবং হিন্দুদের বিনাশ'।
এই উপমহাদেশের শান্তিদূতেদের সম্পূর্ণ ঘর-ফেরত না হওয়া অব্দি অখন্ড ভারতের সংস্থাপনা সম্ভব নয়। তবে লক্ষ্য করে দেখবেন, RSS-BJP-র ম্যানিফেস্টোতে আছে 'অখন্ড ভারত', - 'অখন্ড হিন্দুরাষ্ট্র' না।
তাই মরদ-এ-মুজা*হিদ মোদী এবং তার ইদানীং পাসমান্দা 'শান্তি'-প্রীতির সাতপ্যাঁচ দেখে মনে হয়: 'অখন্ড ভারতের' স্বার্থে হিন্দুত্বের সম্পূর্ণ বিনাশই BJP-RSS-এর মূল লক্ষ্য।
Thursday, September 28, 2023
কানাডা - খ্রীস্টান - কুসংস্কার - চার্চের চর্চা
যখন হিসারের একটা চার্চের দেওয়াল ভাঙ্গা সারা বিশ্বের ব্রেকিং নিউজ হয়, যখন কাঠুয়ার আসিফার কথা বিবিসি এক মাস ধরে সম্প্রচার করে, যখন একজন আখলাকের মৃত্যু UNO পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যখন গত মাসে ভারতের নদীতে ভাসা লাশ আন্তর্জাতিক খবরের চ্যানেল গুলোর কাছে ভারতের ব্যর্থতার আর হাসির খোরাক হয়ে দাঁড়ায়, যখন ভারতের কৃষক আন্দোলনের বিষয়ে রিয়ানা, গ্রেটা বা মিয়াখালিফারা টুইট করে, তখন কানাডার একটা ক্যাথলিক স্কুলের উঠোনে তিন থেকে পনেরো বছরের বাচ্চাদের দু'শোর বেশি গণ-কবর পাওয়া গেলেও বিবিসি থেকে শুরু করে বিশ্বের সমস্ত মিডিয়া একটা আওয়াজও করে না । আর ঠিক সেই সময়েই যদি আজতক চ্যানেল খবর চালায় হোম-যজ্ঞ করা অন্ধবিশ্বাস তাহলে আমার আপনার জন্যে কারা খবর বানাচ্ছে সেটা বুঝতে সময় লাগে না । আমরা যদি এখনো এদের খবরের চ্যানেল বলি তাহলে ক্যাথলিক চার্চের দালাল কারা ?
হ্যা, কয়েকদিন আগে কানাডার ক্যাথলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান "ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুল"-এর উঠোনে ২১৫ টা বাচ্চার গণ কবর পাওয়া গেছে যারা ১৮৪০ -১৯৯০ সালের মধ্যে কানাডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারের সদস্য ছিল | তাদের বলপূর্বক তাদের পরিবারের কাছ থেকে নিয়ে গিয়ে এই রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে রাখা হত | আর অকথ্য অত্যাচার করা হতো |
সারা বিশ্ব এই খবর নিয়ে একটা আওয়াজও করেনি | এমনকি ভাটিকানের মহান পোপও না | সেই পোপ ফ্রান্সিস যে ২০১৫ সালের ২০শে জানুয়ারী মারিয়েটা থেকে ভাটিকান যাওয়ার আগে সাংবাদিক দের বলেছিল চার্চ বাচ্চাদের সুরক্ষিত রাখতে আর দ্বায়িত্ববান ভবিষ্যত গড়তে সর্বদা কাজ করে চলেছে, কিন্তু পাদ্রী আর চার্চের আধিকারিকদের দ্বারা চার্চের বাচ্চা আর মহিলাদের যৌন হেনস্থার কোনো প্রতিকার না করতে পেরে আমরা লজ্জিত |এমন নয় যে পোপের কষ্ট হয় না | এমন নয় যে পোপ কোনো বিষয় নিয়ে দুঃখিত বা চিন্তিত হন না | স্পেনে গিয়ে তিনি বলেন যীশুর ২০০০ বর্ষপূর্তির পর থেকে ২০ লক্ষ খ্রিস্টানদের চার্চ আর ক্রিস্চানিটি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ায় উনি দুঃখিত | কিন্তু যখন আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ায় ৩০০ পাদ্রী ১০০০ বাচ্চার যৌন হেনস্থার মামলা সামনে আসে তখন এই পোপ দুঃখ প্রকাশ করেন না, যীশুর কাছে প্রার্থনা করার নাটক করেন | ওই পাদ্রীদের আইনানুগ শাস্তির কথা বলেন না উল্টে যীশুর কাছে ওই বাচ্চা দের "শান্তির প্রার্থনা" করে বলেন "ওই পাদ্রীরা বাচ্চাদের ওপর অত্যাচার করেছে, ওদের অন্ধকার ঘরে বন্ধ করে রেখেছে, বাচ্চাদের কথা কেউ শুনছে না, তুমি ওদের সাহায্য করো" |
ভারতের একটা চার্চে চুরির ঘটনা ঘটলে পোপ দুঃখী হয়ে যায়, আমেরিকার রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা আমাদের প্রধানমন্ত্রী কে ফোন করে দেয় কিন্তু আয়ারল্যান্ড-এর ক্যাথলিক চার্চের থেকে যখন সামূহিক শিশু নিগ্রহের খবর আসে যাতে ম্যাগদালিন লন্ড্রির মত জঘন্য ঘটনা সামনে আসে, তখন পোপ, আমেরিকার রাষ্ট্রপতি বা অন্য কোন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিবাদ বা সমালোচনা চোখে পড়ে না | ম্যাগদালিন লন্ড্রিতে প্রায় ৩০০০ মহিলাকে বন্দী বানিয়ে রাখা হতো চার্চের নির্দেশে, এই লন্ড্রির উঠোনে প্রায় ১৫৫ মহিলার গণ-কবর পাওয়া যায় ২০১৩ তে | এছাড়াও বেআইনি ভাবে শিশুদের কেনা বেচা করার মামলাও সামনে আসে | এই সব কিছুই ক্ষতিপূরণের ডলারে শান্ত করিয়ে দেওয়া হয় |
কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৪৫ শতাংশ চার্চের ওপর ওই একই মামলা সামনে আসে | অস্ট্রেলিয়ার সরকার রয়াল কমিশন বানিয়ে সেই সব মামলার তদন্ত করে | কিন্তু সত্যি সামনে আসে নি আর কোনো ফাদার, প্যাস্টর, পাদ্রীকে শাস্তি দেওয়া যায় নি | শাস্তির নামে তাদের এক চার্চ থেকে অন্য চার্চে ট্রান্সফার করা হয় মাত্র | ১৯৮০ থেকে ২০১৩ -র মধ্যে প্রায় ৫০০০ মহিলা আর শিশু নিগ্রহের মামলা সামনে আসে | স্পেনে গত পঞ্চাশ বছরে প্রায় তিন লাখ বাচ্চা বিক্রি করা হয় ডাক্তার, নার্স পাদ্রী, প্যাস্টর, নান দের একটা চক্রের দ্বারা | হাসপাতাল থেকে বাচ্ছা চুরি করে সেই বাচ্চা বিক্রি করে কয়েক লক্ষ ডলার কামিয়েছিল এই যীশু ভক্তরা, মামলা হয়েছে কিন্তু শাস্তি হয়নি | কিছুদিন আগে ভারতের তামিলনাডুর কাঞ্চিপুরম জেলার সাল্ভাক্কাম গ্রামে "দ লাইট অফ দ ব্লাইন্ড" নামক NGO-র আড়ালে এক পাদ্রী মানব অঙ্গ আর হাড়ের চোরাচালান করতে ধরা পরেছিল |
এসবে পোপের সামান্য দুঃখও হয় না | কারণ পোপ এই ফাদার, প্যাস্টর, পাদ্রীদের থেকে আলাদা কেউ নয় | হ্যা, এদের সর্দার বলা যেতে পারে | অস্ট্রেলিয়ার রয়াল কমিশনের উকিল গ্যাল ফার্নেস-এর লেখা পড়লে সেটাই মনে হয় |
হিন্দুদের একপ্রকার সব কিছুকেই কুসংস্কার, নারীবিদ্বেষী প্রমান করতে ব্যস্ত এই খ্রিস্টানদের চার্চে একসময় হোয়াইট উইচ আর ব্ল্যাক উইচ এর চলন ছিল | হোয়াইট উইচ মানে যারা ফাদার, প্যাস্টর, পাদ্রীর ওজন নিজের ওপর নিতে রাজি আর ব্ল্যাক উইচ মানে যারা রাজি নয় | তাদের জিনের কাছে দিয়ে দেওয়া হতো জ্যান্ত জ্বালিয়ে মারার জন্যে | একটা ছবি দিয়েছি | এই ছবি নিয়ে বেশি পড়াশোনা করতে গিয়ে একটা সাইটে গিয়ে পৌঁছতে দেখলাম প্রবেশ শুধু মাত্র উইচ মেম্বারদের জন্যে |
আমাদের হোমযজ্ঞকে কুসংস্কার বলা এই ক্রিস্টান বুদ্ধিজীবীদের পীঠস্থান কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি জিনদের আধুনিক চিকিত্সায় কিভাবে ব্যবহার করা যায় তার জন্য আর্টিকল ছাপে |
আজ ভারতে ঝোলা ছাপ খ্রিস্টানরা রাস্তার মোড়-এ দাঁড়িয়ে বাইবেল বিলি করছে, যীশু কত দয়াবান তার মহিমা প্রচার করছে | স্কুলের বাইরে বাচ্চাদের ক্রস আর যীশুর কমিক্স বিক্রি করা হচ্ছে, ম্যাজিক চিকিত্সা করার হাস্যকর ভিডিও দিয়ে কিছু আকাট মুর্খকে খ্রিস্টান বানানো হচ্ছে, রাখি সাবন্ত-এর মতো কিছু দুশ্চরিত্র লম্পট বলছে তার শরীরে যীশুর রক্ত বইছে তাই তার করোনা হবে না, এক বস্তা চালের পরিবর্তে প্রকাশ্যে ধর্মান্তকরণের ব্যবসা চলছে, বেকারদের রোজকার করার জন্য মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর স্টাইলে ধর্ম বদলানোর ব্যবসা চলছে আর আমরা চুপ করে দেখছি | কনভেন্ট-এ পড়তে বা বাড়ির বাচ্চাদের পরাতে পারলে এখনকার বাবা মা ধন্য হয়ে যায় | ২৫শে ডিসেম্বর মাথায় সং টুপি না পরলে আর কেক না খেলে জীবনটাই ব্যর্থ মনে করে দিনমজুর থেকে কোটিপতি সবাই |
সারা বিশ্বে যখন খ্রিস্টানরা চার্চ, ফাদার, পাদ্রী, প্যাস্টরদের অত্যাচারের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিরোধ করছে, "আমাদের চার্চ থেকে আমাদের বাঁচাও" লেখা পোস্টার নিয়ে মিছিল করছে, তখন আমাদের দেশে ক্রিপ্তোক্রিশ্চানরা একবস্তা চাল বা পাঞ্জাবের মত রাজ্যে এক বস্তা গম দিয়ে গরীব মানুষগুলোর গলায় যীশু ঝুলিয়ে দিচ্ছে আর চৌবাচ্ছার জলে টিপে ধরে হালেলুইয়া করে দিচ্ছে | অতি সত্তর যদি এই মহামারীর বিহিত না করা হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের আশেপাশেও ঐরকম পোস্টার নিয়ে দাঁড়ানোর লোক কম পড়বে না |
অনিন্দ্য নন্দী, রাজ্য সভাপতি, একম সনাতন ভারত দল, পশ্চিমবঙ্গ
☆ধর্ম vs মজহব্ বা Religion এবং সনাতন হিন্দু ধর্মের চূড়ান্ত স্বাধীনতা☆
সনাতন্ হিন্দু ধর্মে পবিত্র সংখ্যা ১০৮ এত মহাত্মপূর্ণ কেন...???
সনাতন্ বৈদিক হিন্দু ধর্মে, ১০৮ সংখ্যা টি অত্যন্ত পবিত্র সংখ্যা রূপে গণ্য করা হয়। কিন্তু কেন...??? কলমে :- অরিন্দম রায়। আমাদের যো...
-
লিখন: বিজিৎ প্রশান্থা সম্প্রতি এক উঁচুস্তরের দিল্লী মহলের নেতা JNU -এর এক হিন্দুবাদী প্রফেসর আনন্দ রঙ্গনাথনের কাছে নাকি এই অভিমত ব্যক্ত কর...
-
লিখন: বিজিৎ প্রশান্থা এই পোস্টটিতে আমি ভারতীয়তার মতো একটি all-inclusive ধারণার প্রেক্ষিতে বামপন্থার মত একটি বাইনারি ধারণার অসারতা নিয়ে লিখ...
-
লিখন: বিজিৎ প্রশান্থা হিন্দুদের এবং হিন্দুত্বের বেশ কয়েকটি ডক্ট্রিন আছে যেগুলি খুব সহজেই হিন্দুদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায়। হাজার বছর ধরে ...








